Skip to Content

In Search Of Nikah

February 26, 2026 by
Ahmad Shafi
| রাইটস্ ফর উম্মাহ—দাওয়াহ সিরিজ।
❖ “বিবাহের চিঠি”

◻️বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বিবাহের চিঠি...কেউ বা আগলে রাখে হৃদয় ভরে—না বলা সব গল্পের সুরে সুরে, আবার কেউ বা দাগে-ভাঁজে ভরিয়ে তুলে যিনা-ব্যভিচারের কালি মেরে। যাইহোক, এমনই এক চিঠির সন্ধানকালে খোঁজ মিললো এক কবিতারঃ

তোমার ভালোবাসা যদি চায় নগ্নতা—
তবে সেটা ভালোবাসা নয়; যৌনতা।
ভালোবাসা মানে নয় চুরি করে ছোঁয়া,
অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা লালসার ধোঁয়া।
ভালোবাসা মানে নয় শুধু এক যৌন-ব্যথা—
ভালোবাসা মানে দুই প্রাণ এক হৃদয়ে গাঁথা!
ভালোবাসা মানে—নামিয়ে রাখা চোখ,
হালালের তরে রাঙিয়ে তোলা এক একাকী দুঃখ!
ভালোবাসা মানে সবর আর তাকওয়া,
ইচ্ছেকে শাসন করা—বয়ে চলা সংযমের হাওয়া!

ভালোবাসা মানে কি—
পরিয়ে ‘কলঙ্কের রাখী’—উড়াল দেওয়া পাখি?
ভালোবাসাহ! ভালোবাসার ভাষা বুঝে সেইজন—
রবের প্রেমে ফুটে যার অশ্রু ভরা আঁখি, ছুটে যার মন!
মুসলমানের ভালোবাসা জেনেও এক অজানা!
যা কভু ঠুনকো হতে পারে না—সে এক হার না মানা।

প্রেম নামে যা করো আজ, সেটা তো শয়তানের বেসুরা সাজ!   
তবে—ঈমান নিলে প্রেমও পাবে, নিকাহ ছাড়া কেউ না রবে।
দোয়ার প্রাতে সময়ের স্রোতে, নিকাহর ছায়ায় আলোর পথে!
নেক ভালোবাসা দাঁড়িয়ে থাকে—দো-জাহানের পথের বাঁকে।
যে প্রেম আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, যে প্রেম রাসূলের হয়ে হাসে!
সে প্রেম ভেসে ওঠে পূব আকাশে—সুবাস ছড়ায় বাতাসে।

◻️আমার প্রিয় ভাই!
বিবাহ হচ্ছে একটি হালাল ভালোবাসা; আর হালাল ভালোবাসা মানে—অপেক্ষার অবসা, চিরকাল হাসা, হৃদয়ের ভাষা, বেহেশতের বিপাশা, স্নিগ্ধতায় ভাসা, আলোক দিশা! আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
* “আর আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও।” -(সূরা আর-রূম: আয়াত ২১)
* “তারা(স্ত্রী) তোমাদের জন্য পোশাক, আর তোমরা(স্বামী) তাদের জন্য পোশাক।” -(সূরা আল-বাক্বারা: আয়াত ১৮৭)
এককথায় বিবাহ হলোঃ
-আল্লাহর সন্তুষ্টি
-দ্বীনের অর্ধেক 
-নফসের সুরক্ষা
-দৃষ্টির হিফাযত
-চরিত্রের ঢাল
-ফিতনা থেকে মুক্তি
-হিদায়াতের রাস্তা
-গা‘য়রতের প্রকাশ
-দায়িত্বময় ভালোবাসা
-যৌনতার হালাল পন্থা
-মানসিক শান্তি
-সুখের সাম্রাজ্য
-একঝাঁক নতুনত্ব
-বংশের সংরক্ষণ
-সমাজের ভারসাম্য
-উম্মাহর প্রদীপ
-ঈমান ও আমলের স্থায়িত্ব
-নাজাতের উসিলা।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِهَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
* “দুনিয়া হলো সাময়িক; আর এর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।” -(সহীহ্ মুসলিম)

একজন মু’মিনের জীবনে তার স্ত্রী(মাহ্-রাম) ব্যতীত দুনিয়ার আর কোনো গা‘য়রে মাহ্-রাম নারী আপন নয়—সে যতই রূপসী, লাবণ্যময়ী, মায়াবী, সুবাসি-সুহাসিনী হউক! বিবাহের মাধ্যমে সংঘটিত স্বামী-স্ত্রীর নেক ভালোবাসা যে কতটা মূল্যবান কতটা মর্যাদাবান তা উলামাদের উল্লেখ অনুযায়ী—বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে: যখন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায় এবং স্ত্রীও তার দিকে তাকায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুনিয়াতে একজন মু’মিনের প্রথম প্রেমও আল্লাহ, শেষ প্রেমও আল্লাহ—আর তার মধ্যে একজন দ্বীনদার আল্লাহ-ওয়ালি আহ্‌লিয়্যাহ হলো সেই প্রেমের সফর সঙ্গী।

◻️আমার প্রিয় ভাই!
এই ফিতনার জামানায়—বিবাহের আগে একজন মু’মিনের যাবতীয় একান্ত প্রেম-ভালোবাসা আমানত স্বরূপ; ততকাল...যতকাল পর্যন্ত না কেউ তার এই আমানতটুকু নিতে আসবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
* “যিনা-ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেওনা, নিশ্চয়ই এটি একটি অতি অশ্লীল ও জঘন্য পথ।” –(সূরা আল-ইসরা: আয়াত ৩২)
* “কান, চোখ আর অন্তর- এগুলোর সকল বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” -(সূরা আল-ইসরা: আয়াত ৩৬)

মনে রেখোঃ
* “চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষদের জন্য, আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের জন্য, চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।”
-(সূরা আন-নূর: আয়াত ২৬)
* “ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী বা মুশরিকা নারী ছাড়া বিবাহ করবে না, অনুরূপ ব্যভিচারিণী নারী কেবল ব্যভিচারী বা মুশরিক পুরুষ ছাড়া বিবাহ করবে না—মু’মিনদের জন্য তাদের হারাম করা হয়েছে।”
-(সূরা আন-নূর: আয়াত ৩)

◻️`পরিশেষেঃ`
বিয়ে না করা পর্যন্ত একজন যুবকের দ্বীনদারিতা পূর্ণতা পায়না [১]। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ
* “হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে।” -(সহীহ্ বুখারি, সহীহ্ মুসলিম)
আর যাদের সামর্থ্য নাই, তাদেরকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া-তা‘আলা বলেন: • “যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম(পবিত্রতা) অবলম্বন করে—যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের স্বচ্ছল করে দেন।”
-(সূরা আন-নূর: আয়াত ৩৩)
এমতাবস্থায় আল্লাহর নিকট দো‘আ করুন এভাবে:

رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَا جِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّا جْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَا مًا
* “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করে দেবে আর আমাদেরকে মুত্তাক্বীদের নেতা বানিয়ে দিন।” -(সূরা আল-ফুরক্বান: আয়াত ৭৪)

رَبِّ اِنِّيْ لِمَاۤ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ
* “হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই করবে আমি তো তারই ভিখারী।” -(সূরা আল-কাসাস: আয়াত ২৪)

◻️`সর্বশেষেঃ`
বিয়ের আগে কোনো প্রেম-ভালোবাসা নাই, আর যদি থেকেও থাকে তবে সেটা ভালোবাসা নয়—যৌনতা। অর্থাৎ, যে প্রেম আল্লাহর সীমা মানে না, যে ভালোবাসা—লালসা, গোপনীয়তা ও সীমালঙ্ঘনের ওপর দাঁড়িয়ে, তা প্রেম নয়; সেটা শয়তানের প্ররোচনায় শরীরকেন্দ্রিক ভোগ। প্রকৃত ভালোবাসা হলো সবর, সংযম, তাকওয়া ও নিকাহের পথে আল্লাহভীরু দু’টি আত্মার মিলন—যা দুনিয়া ছাড়িয়ে আখিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত। বিবাহ একদিনের আবেগ নয়; আজীবনের অঙ্গীকার। তাই, আমার প্রিয় ভাই! একটি কথা কখনো ভুলো না: ‘যে প্রেম করে সে বিয়ে করে না—আর যে বিয়ে করে সে প্রেম করে!’
[১]~(ইমাম আবু নুআইম | হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/৬)

❗১৪ ফেব্রুয়ারী/ভ্যালেন্টাইন্সকে না বলুন, বিবাহ করে পুরুষ হোন।

in News
Sign in to leave a comment
Who Are the Prophets in Islam?