🌙 ঈদ মোবারক
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের সকল (ইবাদত) কবুল করুন।
আসসালামু আ’লাইকুম।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে ‘Writes For Ummah’ প্লাটফর্ম থেকে মুসলিম উম্মাহর সকল ভাই-বোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দো‘আ। আল্লাহ আমাদের সিয়াম, কিয়াম, তিলাওয়াত এবং সকল ইবাদত কবুল করুন এবং আমাদের জীবনকে কুর‘আন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করার তাওফিক দান করুন।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ " مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ " . قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ " .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনা হতে এসে দেখেন মাদীনা বাসীরা নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলাধূলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘এ দু’টি দিন কিসের?’ সকলেই বললো, জাহিলী যুগে আমরা এ দু’ দিন খেলাধূলা করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ তোমাদের এ দু’ দিনের পরিবর্তে উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন। ~(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৩৪ | সহিহ হাদিস)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া-তা‘আলা বলেনঃ
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَا نْحَرْ
“কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কুরবানী করো।” ~(আল-কাউসার: আয়াত ২)
ঈদের সুন্নাহ-সমূহঃ
ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করা, যেমন তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত, দরুদ, যিকির, ইস্তে‘গফার।
অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করা।
নামাজে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতির আদায় করা।
মিসওয়াক করা।
গোসল করা।
শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা।
সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা।
সুগন্ধি ব্যবহার করা।
ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি-জাতীয় খাবার যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া।
সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।
ঈদের সালাত ঈদগাহে(খোলা মাঠে) আদায় করা, একান্ত বাধ্য না হলে মসজিদে আদায় না করা।
যে রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাবে, সম্ভব হলে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা।
পায়ে হেঁটে যাওয়া।
খুতবা শোনা।
ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় নীরবে এই তাকবীর পড়তে থাকা: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
ঈদের প্রস্তুতি টিপসঃ
ইসলামে বার্ষিক জাতীয় উৎসব দুইটি: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।
সুন্নাহসম্মত উপায়ে ঈদ উদযাপন করুন।
ঈদের সালাতের পূর্বেই ফিতরা আদায় করুন।
হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
ঈদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনা জরুরি নয়।
অপচয় করবেন না।
গরিব আত্মীয়-স্বজন, অসহায় প্রতিবেশীদের শিশুদেরকে ঈদের পোশাক ও উপহার দিন।
ঈদ উপলক্ষ্যে গান-বাদ্য, অশ্লীলতা, হারাম নাটক ও সিনেমা না দেখার প্রতিজ্ঞা করুন।
সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করুন। যথা: তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম/আসসালামু আ’লাইকুম। অর্থাৎ আল্লাহ আপনার ও আমার (রমাদানে কৃত) সকল ভালো কাজ কবুল করুন। জাযাকাল্লাহ।