হাদিস
আরবি:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ:
«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ»
উচ্চারণ:
Man kāna yu'minu billāhi wal-yawmil ākhiri fal-yaqul khayran aw liyasmut.
বাংলা অর্থ:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে; অন্যথায় নীরব থাকে।"
সূত্র: সহিহ আল-বুখারি (হাদিস: ৬০১৮) এবং সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৪৭)
হাদিসের শিক্ষা
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি। মানুষের অধিকাংশ পাপ, ভুল বোঝাবুঝি, শত্রুতা এবং সম্পর্কের অবনতির পেছনে জিহ্বার অপব্যবহার বড় একটি কারণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, কথা বলার আগে চিন্তা করতে হবে—আমি যা বলছি তা কি সত্য? তা কি উপকারী? তা কি কারও ক্ষতির কারণ হবে না?
যদি কোনো কথা মানুষের উপকারে আসে, সত্য প্রতিষ্ঠা করে, কাউকে উৎসাহিত করে, জ্ঞান বৃদ্ধি করে বা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে, তাহলে তা বলা উত্তম। কিন্তু যদি সেই কথায় গীবত, মিথ্যা, অপবাদ, কটূক্তি, অশ্লীলতা, অহংকার বা অনর্থক বিতর্ক থাকে, তবে নীরব থাকাই উত্তম ইবাদত।
আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই হাদিসের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। একটি মন্তব্য, একটি পোস্ট বা একটি শেয়ার মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই প্রতিটি শব্দের জন্য একজন মুমিনকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এই চেতনা নিয়ে কথা বলা উচিত।
নীরবতা সব সময় দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং অনেক সময় এটি প্রজ্ঞা, আত্মসংযম এবং তাকওয়ার পরিচয়। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে নিজের চরিত্রকেও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
আমাদের করণীয়
- কথা বলার আগে চিন্তা করা।
- মিথ্যা, গীবত ও অপবাদ থেকে বিরত থাকা।
- মানুষের উপকারে আসে এমন কথা বলা।
- অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলা।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইসলামী আদব মেনে চলা।
- নীরবতাকে দুর্বলতা নয়, ইবাদতের একটি অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা।
উপসংহার
এই হাদিসটি আমাদের শেখায় যে একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় তার কথাবার্তায় প্রকাশ পায়। উত্তম কথা মানুষের হৃদয় জয় করে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়। আর যখন ভালো কিছু বলার নেই, তখন নীরব থাকাই সর্বোত্তম পথ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জিহ্বার হেফাজত করার এবং এই মহান হাদিসের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।