আমার প্রিয় ভাই!
রঙিন চোখে তোমার দেখা দুনিয়ার সবকিছুই আসলে নফসের মরিচীকা। জানো কি?—জিহাদে কোনো আরামকারী যাবে না। এজন্য, অলসতাকে জয় করতে না পারিলে, বুকে গুলি খাবে কি করে। ঘোড়া তো তার যোদ্ধার জন্যই সাজে আর তলোয়ার তো তার আগ্রহীকেই খুঁজে—তাই না?
তবে চলো না, ক্ষুদ্র এক জিহাদে। না হয় এই জিহাদটা হোক দুনিয়ার সব মিছে আরামের বিরুদ্ধে, মনের কলস ভরা সব অলসতার বিরুদ্ধে, হৃদয় অন্ধ করে দেওয়া সব অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আর মনমাতানো সব ফজরের উযরের বিরুদ্ধে। সাজো না আবারও সেই যুদ্ধার সাজ! তুমিই তো এবারের মুজাহিদ। তোমার এতো সব আয়োজন শুধু তোমার এক আল্লাহর জন্য, এর বেশ কিছুই না। নিজেকে আল্লাহর জন্য সাজাও, আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাত সাজাবেন।
তাই,
আমাদের প্রথম জিহাদ হোক ফজরের শয়তানের বিরুদ্ধে। আমাদের সর্বপ্রথম বিজয় হোক ফজর।
যে ব্যক্তি ফজরের ঠাণ্ডা বাতাসে কম্বলটাই ছাড়তে পারল না, যে ব্যক্তি বিছানার মায়া কাটিয়ে উঠতে পারল না—সে ময়দানের উত্তপ্ত ধুলো আর বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়াবে কীভাবে? সে তরবারির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে কীভাবে? সে শত শত তীরের আঘাত সইবে কী করে?
ভুলে গেলে চলবে না—
তলোয়ার কোনো মরিচা ধরা হাতে আসে না, বন্দুক কখনো বসে থাকা কাঁধে ঝুলে না, চোখে-মুখে অশ্লীল-অলসতার সর্দি লেগে থাকা ব্যক্তি কখনো বারুদের ঘ্রাণ পায় না—আল্লাহর দ্বীনের বীরত্ব কোনো গাফিল, অলস, অশ্লীল ও ডোপামিন-হ্যাকড্ (দুনিয়ামুখী) মস্তিষ্কের অধিকারীদের দিয়ে হয় না। আর, যতক্ষণ না আমাদের ফজরের মুসল্লি সংখ্যা জুম‘আর মুসল্লির সমান হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা ময়দানের জন্য প্রস্তুত নই! ধরেন ময়দানে চলেই গেলাম—তারপর কি হবে? আমাদের ইমানী জাযবা, আমাদের জিহাদি তামান্না, আমাদের অন্তর সে-ই ঘুমিয়ে রইলো। এজন্য, সালাউদ্দিন আইয়ুবি রাহিমাহুল্লাহ ও উনার জিহাদ/জিহাদি বাহিনীর ইতিহাস ঘাটলে বুঝতে পারবেন- “যাদের ফজর নেই, তাদের বিজয় নেই”। অর্থাৎ, যেখানে (ঘুম নামক এক ক্ষুদ্র) ত্যাগের শুরু নেই সেখানে (মঞ্জিলে মাকসাদ) শাহাদাত দিয়ে শেষ কিভাবে হবে?
যদি উম্মাহর পুনর্জাগরণ, ইনসাফ এবং সেই সোনালি খিলাফাহ আবারও ফিরিয়ে আনতে চাও, তবে তার শুরুটা অস্ত্রের দামামা, সীমান্ত–পাহাড় বা তলোয়ারের ঝনঝনানি দিয়ে হবে না; তার শুরুটা হবে ফজরের “আল্লাহু আকবার…আসসালাতু খাইরুম মিনান'নাউম” ধ্বনি শুনে বিছানা ছেড়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং, ফজর হলো ঘরের কোণায় থাকা এক জিহাদ। যে পুরুষ ফজরের তাক্বওয়া দিয়ে রাতের অন্ধকার তাড়াতে জানে, সে-ই দিনের ময়দানে সবচেয়ে দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, ফজরের অন্ধকার কেটে মাসজিদে যাওয়া তুমিই তো একদিন শত কাফিরের শির নোয়াবে, কত বাতিলের বুক কাঁপাবে। সুতরাং, আজকের ফজরের কাতারই হবে আগামীর জিহাদের কাতার।
অতএব; আর নয় দেরি, এবার না হয় অলসতার চাদরে ঢাকা অশ্লীলতার গন্ডি ছাড়ি।
মনে রাখো: “আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” -(সূরা আর-রা‘দ,১৩: আয়াত ১১)