নারীজাতির জন্য দাজ্জালের জাল
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি ‘আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা‘দ। সামাজিকতার ভিত্তি ঘরবাড়ী কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। আর ঘরের যাবতীয় কার্যাবলী নারীদের আঁচলের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ঘরোয়া পরিবেশ যদি খারাপ হয়ে যায়, তবে দ্রুত সামাজিকতার অবনতি ঘটতে থাকতে। পক্ষান্তরে ঘরোয়া পরিবেশ যদি শক্ত ও শিষ্টাচারের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে সামাজিকতাও সুস্থ্য ও সঠিক পথে থাকে। এভাবেই একটি সমাজ ধীরে ধীরে চারিত্রিক উন্নতির উচ্চস্তরে পৌছতে সক্ষম হয়। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন হক্ব ও বাতিলের এ যুদ্ধে মুসলমান পুরুষদের উপর যেমন দায়িত্ব অর্পন করেছেন, তেমন বিরাট এক দায়িত্ব মুসলিম মহিলাদের উপরও ঢেলে দিয়েছেন। নবী করীম ﷺ বলেন-
أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْؤولٌ عَنْهُمْ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤولٌ عَنْهُ، أَلَا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
“জেনে রাখো! তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” হাদিসটি বুখারী শরীফ থেকে নেয়া। হাদিসের অবশিষ্টাংশ-
وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا.
“পুরুষগণ স্বীয় পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, এবং তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। মহিলাগণ স্বামীর ঘরের ভেতর দায়িত্বশীল, এবং তাকেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
রাসূলে কারীম ﷺ এটি-(راعي) শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ- দেখাশুনা করা, ঘুরেঘুরে পর্যবেক্ষন করা, চরানো। বকরী চরানোর কাজে অত্যন্ত বিচক্ষণতা, মনযোগ ও কষ্টের প্রয়োজন পড়ে। চরাতে চান, ফলে কষ্ট করতে হবে। কিন্তু কোনো কারণে যদি রাগান্বিত হয়ে বকরীগুলোর উপর কঠোরতা শুরু করে দেন, তবে পরবর্তীতে লোকসান আপনারই। তেমনি প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ/নারীকে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত মনযোগ, বিচক্ষণতা এবং কষ্টসহকারে পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ যদি তার দায়িত্বে বিন্দুমাত্রও অলসতা বা অমনযোগীতা প্রকাশ করে, তবে এর ক্ষতি তাকেই বহন করতে হবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাকের কাছেও এর জবাবদিহিতা করতে হবে।
দাজ্জাল মুসলিম নারীদের জন্য ভয়ানক জাল তৈরী করেছে এবং এ জালে শিকারীকে ফাসানোর উদ্দেশ্যে চমৎকার সব ধ্বনি দিয়ে তা সাজিয়ে রেখেছে। দাজ্জাল ভাল করেই জানে যে, মুসলিম নারীজাতি যদি এ জালে ফেসে যায়, তবে মুসলিম পুরুষজাতিকে পরাজিত করা তার জন্য কঠিন কিছু হবে না। কেননা, মুসলিম নারীগণ ইসলামকে রক্ষার জন্য যুগে যুগে বড়ত্ব ও বাহাদুরীর স্বাক্ষর রেখেছে। যেখানেই ইসলামের উন্নতি সাধনে পুরুষগণ প্রতিযোগীতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করেছে, সেখানে নারীগণও কোন অংশে পিছিয়ে রয়নি। এমনটি কখনো হয়নি যে, পুরুষগণ রণাঙ্গন বিজয় করে ফেলেছে সাথে সাথে নারীদের পক্ষ থেকে কোন সহযোগীতা সেখানে পরিলক্ষিত হয়নি। বরং একসময় তো এমনটি হয়েছে যে, মুসলিম পুরুষদের সেনাদল একের পর এক পরাজয় বরণ করতে লাগল এবং শত্রুরা মুসলমানদেরকে ধারাবাহিকভাবে পরাভূত করছিল। মুসলিম দেশগুলোকে একের পর এক কাফেররা বিজয় করছিল। এমনকি শেষপর্যন্ত সেখানে না মসজিদ বাকী ছিল; না মাদ্রাসা- কাফেররা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল। মাদ্রাসাগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল। উলামাদেরকে জীবিত দাফন করে দেয়া হয়েছিল। মসজিদগুলোকে মদের আড্ডাখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ইসলামী নামকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। প্রত্যেক মুসলমানকে জোরপূর্বকভাবে মুরতাদ করে দেয়া হয়েছিল। ফলে পুরুষদের সাহস ভেঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু এমন কঠিন ও নাজুক পরিস্থিতিতেও মুসলিম মহিলাগণ সাহস না হারিয়ে স্বীয় প্রতিশ্রুতিকে শক্তকরে আকড়ে ধরে আল্লাহর তরফ থেকে দেয়া দায়িত্বসমূহকে পালন করেছিল। তারাই ঘরের আঙ্গিনায় বসে বসে নিভু নিভু করতে থাকা ইসলামের আলোকে জালিয়ে রেখেছিল। সন্তানদের সীনায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'এর কালেমা জীবিত রেখেছিল এবং শিখিয়েছিল যে, তারা মুসলিম জাতি।
দাজ্জালী শক্তি মুসলিম মহিলাদেরকে এ ভয়ানক জালে ফাসানোর জন্য একটি বাণী আবিস্কার করেছে যে, মহিলাগণ যদি ঘর থেকে বের না হয়, তবে সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। মনবৃত্তির পূজারী পুরুষগণ প্রত্যেক যুগেই নারীদেরকে কলংকিত করে আসছে। নারীরা যতই তাদের বাণী, কার্যক্রম এবং ষড়যন্ত্রের ফাদেঁ পা রাখবে, ততই তাদের দুঃখ-দুর্দশা, কষ্ট ও অপমানের সম্মুখীন হতে হবে। এ ব্যাপারে তো কুর‘আন হাদিসে এতকিছু বর্ণিত রয়েছে যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নেই।
কিন্তু মডার্ন (দাজ্জালী) সংস্কৃতির জাদু যেহেতু মহামারীর আকার ধারণ করেছে, সেহেতু সমাজের মা ও বোনদের জন্য (যারা পশ্চিমাবিশ্বের দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবীদের বাণীগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন) দার্শনিক এবং সাহিত্যিক খলীল জিবরানের নিম্নোক্ত বাক্যগুলো পেশ করা হল:-
Modern Woman,
Modern Civilization has made woman a little wiser, but it has increased her suffering because of man's covetousness. The woman of yesterday was a happy wife but the woman of today is a miserable mistress. In the past she walked blindly in the light, but now she walks, open-eyed in the dark. she was beautiful ignorance virtuous in her simplicity, and strong in her weakness. Today she has become ugly in her, ingenuity, superficial and heartless in her knowlegde. (A Third Treasury of Khalil Gibran. P:144)
অনুবাদ- মডার্ন নারী :
মডার্ন সংস্কৃতি এসে নারীজাতিকে কিছুটা চালাক বানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরুষদের মৌনচাহিদার দরুন নারীদের এ সংস্কৃতিতে আরো কিছু লাঞ্ছনা যোগ হয়েছে। গতকাল নারীজাতি ছিল সুখীপরিবারের এক অহংকার। কিন্তু আজকের মডার্ন নারীজাতি ঘৃণায় ভরা এক অবৈধ যৌনসঙ্গিনী। গতকালের নারীগণ চোখ বন্ধ করে আলোতে চলাফেরা করত। কিন্তু আজকের নারীরা চোখ খোলে চলাফেরা করে ঠিকই, কিন্তু অন্ধকারে। গতকালের নারীসমাজ অতি গোপনে নিজের সৌন্দর্য, সদাচরণ এবং সতিত্বের পবিত্রতা রক্ষার দরুণ সম্মানের পাত্রী ছিল। কিন্তু আজকালের নারীসমাজ শিক্ষিত হয়েও অন্ধ, বেখবর, এবং নিষ্ঠুর হয়ে গেছে।
[নোট: mistress শব্দের ব্যাখ্যা ইনসাইক্লোপেডিয়া অফ ইনকারটা ডিকশনারীতে নিম্নোক্ত শব্দাবলীর দ্বারা করা হয়েছে: Extramarital lover of man a woman with whom a man has a usually long-term extramarital sexual relationship, often one in which he provides financial suppport. (Microsoft® Encarta® 2009)]
হে প্রিয় মা ও বোনেরা!
আপনাদের এবং আপনাদের সন্তানদের ধ্বংসের জন্য দাজ্জালী শক্তি কি কি কার্যক্রম শুরু করেছে, এগুলো একটু লক্ষ করুন :-
১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউয়োর্কে বাচ্চাদের অধিকার বিষয়ক একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে প্রায় সত্তরটি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। একষট্টিটি দেশের প্রতিনিধিগণ বাচ্চাদের সম্পর্কে প্রস্তাবকৃত সংবিধানগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর প্রদান করেন।
- সংবিধানের ৫৪ নং অধিকারে বাচ্চাদের কোলে নেয়া, তাদের লালন পালন করে বড় করা, বাচ্চাদের সাথে পিতা-মাতার ব্যবহার, মায়ের সুস্থ্যতা, বাচ্চাদের স্বাধীনতা এবং চারিত্রিক ও ধর্মীয় দিক থেকে বাচ্চাদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর এক নং অনুচ্ছেদে পিতা-মাতাকে সন্তানের প্রতি কোনরূপ ধর্মীয় বিষয় গ্রহণের জন্য বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্কারভাবে অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-পিতা-মাতার উচিত- তার সন্তানকে ধর্মীয়, চারিত্রিক এবং আভ্যন্তরীন বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা। সন্তানকে ভেবেচিন্তে যে কোন পথ বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া। ইচ্ছামত যে ধর্মকে তার ভাল লাগবে, তাকেই সে বেছে নেবে।
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বাচ্চাদের সর্ববিষয়ের বইপুস্তক, পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন অধ্যয়ন করার স্বাধীনতা থাকা চাই। এমনকি সে যদি উলঙ্গ ও অশ্লীল বা যৌনবিষয়ক ম্যাগাজিন ক্রয় করতে চায়, বা শয়তানের পূজা করতে চায়, তবে এটাও তার মৌলিক অধিকার। পিতা-মাতাকে বাচ্চার ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করা চাই। পাশাপাশি অশ্লিলতার এ কাজগুলো যদি সে মুখের দ্বারা বা লেখালেখির দ্বারা প্রচার করতে চায় বা টিভি/ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে চায়, তাহলে এসব কাজেও তার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- ২৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- স্বাধীন নিরাপদ যৌনসম্পর্ক, এতদ্বিষয় তথ্যাবলী, যোগাযোগ মাধ্যম এবং যৌনশিক্ষা সহজকরণ... এ বিষয়গুলো প্রতিটি উন্নয়নশীল সমাজকে ফলো করতে হবে। নারীগণ তাদের গর্ভ রাখবে না নষ্ট করে দেবে, এটাও তাদের মৌলিক অধিকার। পাশাপাশি এমন (হারামী) সন্তান এবং অবিবাহিত নারীদের এমনই সামাজিক অধিকার প্রদান করতে হবে, যেমননাকি অন্যদের প্রদান করা হয়। উপরোক্ত বিষয়াবলীতে যদি পিতা-মাতা সন্তানের সাথে জবরদস্তিমূলক কোন আচরণ করে, তবে সন্তানের অভিযোগে পিতা-মাতাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অসদাচরণের ক্ষেত্রে মারধর ছাড়াও ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষায় সন্তানকে বাধ্য করার বিষয়টি শামিল।
কোনো মুসলমান মা কি কখনো কল্পনা করতে পারে যে, মা অসুস্থ হয়ে খাটে পড়ে আছে। “মা” এক গ্লাস পানি পান করতে চায়, পিপাসায় কাতরাচ্ছে...। কিন্তু বেচারা “মা” কে এক গ্লাস পানি এনে দেয়ার মত কেউ নেই। এমনটি নয় যে, ঘরে কোন মানুষ নেই। ঘরে তার যুবক ছেলে, যুবতী মেয়ে.. সবাই আছে...। কিন্তু তারা স্বাধীন জীবনযাপন করছে। স্বাধীন জীবন, যা মন চায়, করব। মন না চাইলে করবনা। আমাদের সবারই স্বাধীনভাবে জীবন অতিবাহিত করার অধিকার রয়েছে। নিজেদের বেডরুমে...। তারা ব্যক্তিগত মনচাহি বিষয়ে মত্ত...। বন্ধুবান্ধবদের সাথে মদের পাত্র মুখে নিয়ে জীবনযাপন করে পাগল হয়ে আছে। আর এদিকে তার জন্মদাতা “মা” অসুস্থাবস্থায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে এক গ্লাস পানির জন্য হাহাকার করছে। পাশের রুমেই তার সন্তান বন্ধুদের নিয়ে তামাশা করছে... কিন্তু আপন “মা”কে-ও এক গ্লাস পানি দেয়ার মত সময় তার হাতে নেই। আরে “মা”! অসুস্থাবস্থায় কাকে ডাকছেন...!!! কেউ নেই...!!!
কিন্তু ঐ “মা” কি কারো কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করতে পারবেন?! সবার আগে নিজেকে আপনার প্রশ্ন করা উচিত যে, আপনি আপনার সন্তানকে আচার ব্যবহার শিক্ষাদানে কতটুকু সময় ব্যয় করেছেন? সন্তান কি মায়ের শেখানো আচার ব্যবহার ও শিক্ষাদিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে? নাকি শৈশবকাল সে টেলিভিশনের স্ক্রীনের সামনে বসে কিংবা কম্পিউটারে গেম খেলে কাটিয়েছে? প্রত্যেক মায়েরই চিন্তা করা উচিত যে, সন্তানের সুশিক্ষায় তার হাত সবচে' বেশি? নাকি ঐ সকল অপরিচিত মহিলাদের, যারা টেলিভিশনের স্ক্রীনে এসে সবসময় বাচ্চাদেরকে পশুত্বের সবক শিখিয়ে তাদেরকে মুর্খতাযুগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে! পাশাপাশি এও চিন্তা করা দরকার- যে সময় ছোট্ট এ শিশুটি টেলিভিশনে দেখানো অশ্লীলতা এবং বেহায়াপনার ঢেউয়ের সাথে ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখন ঐ “মা” কোথায় ছিল ?!
তারা হচ্ছে ঐ সকল মা, যারা স্বীয় দায়িত্ব-অনুভূতির কথা ভুলে গিয়ে সন্তানদেরকে টেলিভিশনের পর্দায় থাকা মহিলাদের শিক্ষা-দিক্ষার উপর ছেড়ে দিয়েছে, যাদের শিক্ষাদিক্ষার সারকথা হল- জীবন হচ্ছে শুধুই মনোচাহিদা পূরণ করা, স্বপ্নগুলিকে বাস্তবে রূপ দেয়া, জীবনকে আধুনিকতার রঙে রাঙায়িত করার এবং যখন যা মন চায়, তাই করে দেখানোর নাম। আত্মীয়স্বজন, পারস্পরিক স্নেহ-ভালবাসা, পিতা-মাতা, ভাই-বোন...এগুলো শুধুই পুরাতন মধ্যযুগীয় লোকদের মত সময় নষ্ট করার নাম। এটা হচ্ছে আধুনিকতার যুগ... নিজের স্বপ্নগুলিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার যুগ...।
এধারণাগুলো পড়ার পর নিশ্চিতভাবেই পূর্ব-বিশ্বের মায়েরা কেপে উঠবেন। কিন্তু সারাবিশ্বের কাফের সম্প্রদায় আমাদের ঘরে এমনই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। আমাদের ঘরের ব্যাপারে তাদের ইচ্ছা যে, যেমনভাবে তাদের ঘরগুলোতে অশান্তির আগুন লেগেছে, তেমনি আমাদের ঘরগুলোতেও এ আগুন লেগে যাক।
বর্তমান সময়ে শয়তানী শক্তিসমূহের সার্বিক প্রচেষ্টা, দিন-রাত মেহনত এবং নিত্যনতুন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে একটি কথা অবশ্যই বুঝে আসে যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের সবচে' বেশি জোর দুটি বিষয়ে...। একটি বিষয়কে তো সারাবিশ্বের মুজাহিদীনে কেরাম সামলিয়ে নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলাগণ দায়িত্বশীল।
টার্গেটটি হচ্ছে মুসলমানদের ঘরকেন্দ্রিক। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে, এবার কাফেররা তাদের সকল সৈন্যসামন্ত মুসলিম মহিলাদের বিরুদ্ধে নামিয়েছে। তাদের সর্বপ্রথম লক্ষ হচ্ছে- মুসলমানদের সামাজিক পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া, যেমনটি ইউরোপ-আমেরিকায় করা হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় ঘর বলতে কোনো জিনিষ নেই। “মা” কাকে বলে! বোনের কি অর্থ! সন্তানের ভালবাসার স্বাদ কিভাবে অন্তরকে শান্ত করে! কথাগুলো তাদের জন্য অপরিচিত হয়ে গেছে। পারস্পরিক স্নেহ-ভালবাসা, পাড়া প্রতিবেশির অধিকার... বিষয়গুলো তাদের সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষ ব্যক্তিগত জীবনযাপন করছে।
সন্তানেরা মায়ের মমতা ভুলে গিয়ে বড় হয়েছে। কেননা, মায়ের হাতে সন্তানকে একটু ভালবাসা দেয়ার সময়টুকু পর্যন্ত নেই। অথবা তার পশুত্বের চরিত্র এ মমতাকে আটকে রেখেছে। এমন মায়েরাই সন্তানদের ভালবাসা পাওয়ার আশায় অপেক্ষায় থাকে? নাকি বৃদ্ধাশ্রমে (বয়স্কদের জন্য তৈরীকৃত হোস্টেল, পিতা-মাতা বৃদ্ধ হয়ে গেলে সন্তানেরা তাদেরকে ঘর থেকে বের করে ঐ সকল হোস্টেলে অবশিষ্ট জীবন ব্যয় করার জন্য রেখে আসে) বসে বসে জীবনের চাকা এমনভাবে টানতে থাকে, যার কল্পনা করলে ব্রেইন আউট হওয়ার উপক্রম হয়।
সাবেক মার্কিন সরকারী উপদেষ্টা “মিষ্টার বারজেন্সকি” জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ‘Out Of Central’ গ্রন্থে লেখেন- “ঐ সমাজ যেখানে সবকিছু স্বাধীনভাবে করার অনুমতি দেয়া হয় এবং সবকিছু অর্জন করতে দেয়া হয়, সেটা এমন সমাজ যার চারিত্রিক মাত্রা অস্বাভাবিক নিম্নমুখী হয়ে যায়। এমন সমাজের মানুষ তার মনোচাহিদা পূরণের জন্য সব সময় পাগলা কুকুরের মত উৎপেতে বসে থাকে এবং যে কোন মূল্যে তা পূরণ করে ছাড়ে।”
প্রসিদ্ধ চিন্তাবীদ “ডক্টর এলেক্স ক্যারল” তার বিশ্বনন্দিত ‘Man The Unknown’ গ্রন্থে লেখেন- “আমরা পশ্চিমা বিশ্ব চারিত্রিক অবনতির দিক দিয়ে অত্যন্ত নিম্নস্তরে প্রবেশ করেছি। আমরাই সর্বনিকৃষ্ট ও ঘৃণিত সম্প্রদায়।”
ইউরোপ আমেরিকার এ সামাজিক অবস্থান, যা মানবতা ও সভ্যতাকে বহুপূর্বেই মাটিচাপা দিয়েছে, তা এক পশুত্বের সমাজে পরিণত হয়েছে। ইবলীস কর্তৃক মুর্খসভ্যতা তাদেরকে মানবতার স্তর থেকে নামিয়ে অবনতির গর্তসমূহে প্রবেশ করিয়েছে। এর থেকেও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে- তাদের এ সামাজিকতাকে তারা আধুনিক সভ্যতা বলে আখ্যায়িত করে থাকে। অথচ এটা কোন নতুন সভ্যতা নয়; বরং এ সভ্যতার ইতিহাস ইবলীসের সকল অনিষ্টতা ও দুর্ভাগ্যতার ইতিহাসের মত প্রাচীন। পশ্চিমাদের বর্তমান সভ্যতা হাজারো বৎসরের পূরাতন অমানবীয়, দুর্গন্ধময় এবং শয়তানের পেট থেকে জন্ম নেয়া এক সভ্যাতা, মানব সভ্যতার সাথে যার কোনই সম্পর্ক নেই।
আপনি মানবেতিহাস লক্ষ করে দেখুন- লূত (আ.)-জাতির ইতিহাস পড়ুন। তাদেরও একই সভ্যতা ছিল। এ মুর্খ সভ্যতাই তাদেরকে পুরুষদের ব্যবহার করে নারীজাতি থেকে গাফেল বানিয়েছিল এবং মহিলাদের ছেড়ে পুরুষদের সাথে যৌনচাহিদা পূরণকে ফ্যাশন বানিয়েছিল। নারীজাতিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাদেরকে অনিষ্টতায় ডুবিয়ে দিয়েছিল। এমনই অনিষ্টতা, যা বর্তমান ইউরোপ আমেরিকান মহিলাদেরও পা থেকে নিয়ে মাথা পর্যন্ত ভরে আছে। পাশাপাশি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতেও এ অনিষ্টতা ছড়িয়ে দেবার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। লুত জাতি হাজার বৎসর পূর্বেই এর শাস্তি ভোগ করে গেছে। আল্লাহ তা‘আলার আদেশ অমান্যকারীদের কিরকম পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, পর্যটকদের জন্য “মৃতসাগর” অদ্যাবধি তার সাক্ষী হয়ে আছে যে, এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়ানক।
বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতা এমনই এক মুর্খ সভ্যতা, যা কখনো গ্রীক সভ্যতার নামে ইবলিসের পেট থেকে জন্ম নিয়েছে, আর কখনো এবাদত ও উপাসনার কথা বলে নারীজাতিকে কলঙ্কিত করেছে। কখনো রুমী সভ্যতার পোশাক পড়ে রুমের ষ্টেডিয়ামে মহিলাদেরকে উলঙ্গ নাচিয়ে তাদের মাথায় গৌরবের মুকুট রেখেছে। কখনো পারস্য সভ্যতার আকৃতিতে এসে বোনকে ভাইয়ের জন্য হালাল সাব্যস্ত করেছে। মুর্খ এ সভ্যতারক্ষীদের অহংকার রক্ষার্থে কখনো নিরপরাধ কন্যাসন্তানদেরকে মাটির নিচে জ্যান্ত কবর দেয়াকে ফ্যাশান এবং রেওয়াজ বানিয়েছে। আর কখনো নারীজাতিকে অপবিত্র ও অলক্ষী বলে তাদের থেকে দূরে থাকাকে এবাদত আখ্যা দিয়েছে। এটা হচ্ছে ঐ মুর্খ সভ্যতা, যা হিন্দুস্তানের মহিলাদেরকে সকল বিপদ ও অনিষ্টতার মূল বলে মৃত স্বামীর সাথে জীবিত জ্বালিয়ে দেয়াকে পূণ্যের কাজ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এটা কোন আধুনিক সভ্যতা নয়। এটা কোন সুশীল সমাজের সভ্যতা নয়। বরং এটা হচ্ছে মুর্খতাযুগের মুর্খসভ্যতা, যা প্রত্যেক যুগেই নারীদেরকে সভ্যতার নামে ক্ষুদার্থ কুকুরদের সামনে লেলিয়ে দিয়েছে। এমন কুকুর, যে ক্ষুদার্থও হয়, বুড়াও হয়। যে বেশি নড়াচড়া না করেই পেট ভরে নিতে চায়। মুর্খ সভ্যতার এ কার্যক্রমগুলি নারীজাতির জন্য ঐ কুকুরের মত।
এ সভ্যতারক্ষীরা আজও মহিলাদের ব্যাপারে ঐ মনোবাসনাই পোষন করে, যা লূত জাতি থেকে শুরু করে ভারতের হিন্দু সমাজ এবং পশ্চিমাবিশ্বের খোলামনের সামাজিক লোকেরা পোষন করে থাকে। তাদের দাবী যে, মনোচাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সকল বাধা বিপত্তিকে নিঃশেষ করা হোক। পশ্চিমা বিশ্বের এ সভ্যতাকে আধুনিক সভ্যতা বলে আখ্যায়িতকারীগণ হয়ত- ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, আর নাহয় তারা তুতা পাখির মত যে, মালিক যে শব্দই তার সামনে উচ্চারণ করে, তাই সে জপতে শুরু করে।
সুতরাং মুসলিম নারীদের এ কথা ভালো করেই বুঝে নেয়া উচিত যে, নারীজাতির স্বাধীনতা, উন্নতি, স্বচ্ছলতা এবং সমাধিকারের ধ্বনি দেয়া লোকজন তাদের শুভাকাঙ্কী নয়; বরং তারা হচ্ছে ঐ মুর্খ সভ্যতার রক্ষীবৃন্দ- যে মুর্খসভ্যতা প্রতিটি যুগেই নারীজাতিকে কলংকের আসনে বসিয়েছে।
আজকের মায়েরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে অনুভূতিশীল না হোন, তাহলে এ সভ্যতা এবং এ পরিস্থিতি বেশি দূরে নয়; বরং তা আপনার ঘরের দরজাতেই খটখট করছে। বরং যদি বলি যে, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে, তাহলেও ভুল হবে না। ফ্যাশন, নারী স্বাধীনতা, পুরুষদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে চলার অঙ্গিকার, ঘরের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে দুনিয়ার হাঙ্গামায় পুরুষদের সাহচর্য প্রদান... ইত্যাদি ব্যাপারগুলি ঐ সকল ইউরোপ-আমেরিকান সভ্যতায় নিমজ্জিত করার মত ব্যাপার, যার মধ্যে একজন মহিলা প্রবেশ করার পর চিরদিনের জন্য সে পুরুষদের খেলনা হয়ে যায়।
তোমাদের প্রকৃত শুভাকাঙ্কী এবং রক্ষী হচ্ছে ঐ সভ্যতা, যা প্রতিটি যুগেই ঐ মুর্খ সভ্যতারক্ষী হায়েনাদের কবল থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করেছে। তোমাদেরকে সম্মানের যথাযোগ্য আসনে সমাসীন করেছে। এ আসন তোমাদেরকে ঐ সৃষ্টিকর্তা দান করেছেন, যিনি তোমাদেরকে সম্মানের অধিকারী বলে পাঠিয়েছেন এবং মুর্খসভ্যতার অধিকারী কুকুরদের থেকে তোমাদেরকে রক্ষার জন্য কিছু মৌলিক নিয়মপদ্ধতি শিখিয়েছেন। এ সকল মৌলিক নিয়মকানুনই তোমাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে। সুতরাং কখনোই এগুলি পরিহার করা তোমাদের উচিত নয়। তোমাদেরকে এ সকল নিয়মকানুন থেকে হটানোর জন্য দুশমনেরা বলতে পারে যে, “এসকল নিয়মকানুন এখন পুরাতন হয়ে গেছে”, “বর্তমান আধুনিকতার যুগে এগুলো অচল”... ইত্যাদি ইত্যাদি।
তারা যাই বলুক; তাদের কথায় কান দেবেননা। বরং ইসলামী সভ্যতাকে নিজের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য আবশ্যিক করে নিন। পাশাপাশি মুর্খসভ্যতার এ ছোবল থেকে নিজেকে এবং স্বীয় সন্তানদেরকে রক্ষা করুন। যাতে ঘরোয়া সুখ-শান্তি বজায় থাকে, পিতা-মাতা এবং সন্তানদের ভালবাসায় কারো নজর না পড়ে, ভাই-বোনের মাঝে আত্মীয়তার পবিত্র পবিত্র বন্ধন অটুট থাকে। আপনার দুশমনেরা আপনার বিরুদ্ধে উস্কানী দিচ্ছে, এই উস্কানীকে আপনাকেই দমন করতে হবে।
ইসলাম আপনার খোদাপ্রদত্ত যোগ্যতাগুলিকে শিকলে বন্দি করে রাখেনা। আপনি আপনার যোগ্যতাগুলিকে ইসলাম এবং দ্বীনের খেদমতের জন্য উন্মুক্ত করে দিন। আপনি যদি মুসলমানদের সেবায় অংশগ্রহণ করতে চান, তবে একটু চিন্তা করে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করুন যে, সেবাগুলো বাস্তবায়নের জন্য কি আমাকে পশ্চিমা সভ্যতায় ডুবে যেতে হবে? ইসলামী নিয়মকানুন মেনে আপনি কি এগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম নন?! এমনটি কি কখনো সম্ভব যে, পশ্চিমা সভ্যতা অনুসরণ করেই আপনি তাদের মুকাবেলা করবেন? অথচ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আপনাকে সম্মানের পাত্র বানিয়েছেন এবং আপনার জন্য ঐ পরিণাম বেছে নেননি, যা কাফেরদের জন্য বেছে নিয়েছেন।
আজও কত মুসলিম নারী ইসলামের সহযোগীতা ও উন্নতিতে স্বীয় জীবনকে উৎসর্গ করছে। আল্লাহ তা‘আলাও তাদের মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত নিয়েছেন। সুতরাং মুহাম্মাদে আরাবী রাসূলে কারীম ﷺ এর একমাত্র আদর্শ অনুসরণ করলেই আমরা দুনিয়া-আখেরাতে সফল হতে পারব। এতে আমাদেরই মঙ্গল নিহীত রয়েছে। যেমন- আপনি যদি ডাক্তার হয়ে থাকেন, তাহলে সকাল-সন্ধা আপনার কাছে কত মহিলা চিকিৎসার জন্য এসে থাকে। তারা আপনার কথা মনযোগ দিয়ে শুনে থাকে। আপনি যদি তাদেরকে বর্তমান যুগের ফেতনা এবং দাজ্জালের ফেতনা সম্পর্কে পাঁচ মিনিট করে বলেন, তাহলে হয়ত আল্লাহ তা‘আলা আপনার কথার প্রেক্ষিতে কত মা-বোনের জীবনধারা পরিবর্তন করে দেবেন। আপনি যদি শিক্ষক হয়ে থাকেন, তবে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত আপনি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে থেকে তাদেরকে টিচিং দেন। এসকল ছাত্র-ছাত্রীরা আপনার উপর ভরসা করে আপনার কথাগুলোকে আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে। আপনি তাদেরকে বর্তমান সময়ের ব্যাপারে অবহিত করেন। কোনটা করলে লাভ আর কোনটায় ক্ষতি- তাদেরকে একটু বুঝান। তাদেরকে বলুন যে, আমেরিকা-ইউরোপ থেকে মহিলারা তাদের ঘরবাড়ী ছেড়ে এজন্য এসেছে যে, তারা তোমাদের ঘরবাড়ী, দ্বীন-আখেরাত ধ্বংস করতে চায়। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সাথে যেসকল মহিলা এসেছে, তারা মুহাম্মাদে আরাবী সা. এর দ্বীনকে মিটিয়ে সারা দুনিয়ায় শয়তানী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছে। কাফেরদের নারীরা তাদের মিথ্যাধর্মের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করছে..। তারা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ তাওরাত-ইঞ্জীল (বিকৃত) পড়েই এখানে এসেছে। তাদের কিতাবের ভাষ্য অনুযায়ী- মুসলমানদেরকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করতে পারলেই বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এহেন পরিস্থিতিতেও কি মুহাম্মাদে আরাবী ﷺ এর রূহানী মেয়েরা রাসূলের দ্বীনকে বাঁচানোর জন্য কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করবে না? তাই যদি হয়...তবে আয়েশা সিদ্দীকা রা. ও ফাতেমা যাহরা রা. এর স্থলাভিষিক্তদেরকেও নিজেদের ঘরবাড়ী ধ্বংস হতে, সন্তানদের হত্যার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে এবং স্বীয় সমাজকে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার মত পরিস্থিতিও অবলোকন করতে হবে।
আমার বোনেরা! দুনিয়া তো চলতেই থাকবে। এ বিষয়গুলো মৃত্যুর পূর্বে আমাদের থেকে আলাদা হবে না। সুতরাং আপনি নিজেই নিজেকে এসকল ঝামেলা থেকে মুক্ত করুন। দুনিয়াকে ছাড়ুন... ভাগ্যে যতটুকু লেখা আছে, ততটুকুই মিলবে। দুনিয়ার পেছনে চললে সে আপনাকে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও অপদস্থ করে ছাড়বে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াকে লাথি দেবে, দুনিয়া তার পায়ে এসে পড়বে। আপনি আপনার আখেরাত নিয়ে ফিকির করেন। অন্যদের দেখবেন না...কে কি করছে, কার কাছে কতটুকু আছে, কে কত তালা বাড়ী বানিয়েছে! বরং দেখুন- আখেরাতের জন্য কে কি পরিমাণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে! কেননা সেটাই হচ্ছে চিরস্থায়ী ঘর। এটা আবার কেমন বুদ্ধিমানের কাজ যে, যেখানে থাকা হবে না- সেখানে বিশাল বাড়ী বানিয়ে বসেছে। আর যেখানে তার চিরদিন থাকা লাগবে, তার জন্য কোন ফিকিরই করছেনা। দুনিয়ার জিন্দেগী একভাবে অতিবাহিত হলেই হল। কিন্তু প্রকৃত বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি, যে চিরস্থায়ী জিন্দেগীর প্রস্তুতি নিয়ে সদা ব্যস্ত থাকে।
সুতরাং আমরা যদি ভালোকিছু করি, তবে তা আমাদেরই উপকারে আসবে। আর যদি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করি, তবে তা আল্লাহর দ্বীনকে সামান্যতম ক্ষতি করতে পারবেনা। কিন্তু এরফলে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন এবং আল্লাহ না করেন- আমরা “কানা দাজ্জাল”কে খোদা বলে বিশ্বাসকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো। যাকে বর্তমান যুগে ফ্যাশন বলা হচ্ছে, এর সবই কানা দাজ্জালের পেতে রাখা ফাঁদ। আপনার যদি জানা থাকে যে, ফ্যাশন কোথায় তৈরী হয়, কাপড়ের নতুন নতুন ডিজাইন কোথায় প্রস্তুত করা হয়, এরপরও আপনি নিজেকে মনচাহি জিন্দেগীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাহলে আপনিই চিন্তা করুন যে, আপনার এ শিক্ষাদিক্ষা ও অনুভূতি কোন পর্যায়ের! যে, সে কোনটি লাভ আর কোনটি লোকসান, তা পৃথক করতে পারছেনা। পক্ষান্তরে আপনি যদি অন্যান্য মহিলাদের দেখাদেখি এমন পথ বেছে নিয়ে থাকেন, ফ্যাশন এবং আর্ট সম্পর্কে আপনার তেমন জ্ঞান নেই, তবে এমন নেক মহিলাদের কাছ থেকে আপনি তা জেনে নিন, যাদের কাছে এগুলোর বাস্তবতার জ্ঞান রয়েছে।
ফ্যাশনের যে সড়কে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিজের লক্ষকে মনচাহি জীবনযাপনের উপর ছেড়ে দিয়েছেন! স্মরণ রাখবেন যে, যে এপথটি সোজা কানা দাজ্জালের কাছে গিয়ে শেষ হয়েছে। এ সভ্যতার আইডল হচ্ছে ঐ মিথ্যা খোদা। পাশাপাশি এটাও মনে রাখবেন যে, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের কাছে এপথটি পছন্দনীয় নয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ، مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُؤُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا». (صَحِيحُ مُسْلِمٍ: 5704)
অনুবাদ- “হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ এরশাদ করেন- ঐ সকল মহিলা, যারা কাপড় পরিধান করার পরও উলঙ্গ হয়, অপরকে নিজের প্রতি আকৃষ্টকারী এবং নিজেও ঝুকন্ত (কোমর দুলিয়ে বাঁকা অবস্থায়)। তাদের মাথা ঝুকে থাকা উটের কান্ধার মত দেখাবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও তারা পাবেনা। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত.. এত.. পরিমাণ দূর থেকেই অনুভব করা যায়।”
আল্লাহ রক্ষা করুন- না কোনো ভালো কাজ তাদের উপকারে আসবে, না দাজ্জালের পথে চলার কারণে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে। বান্দা যা করছে, নিজের জন্যই করছে। শহরের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো সিনেমার পোষ্টার, হলিউড-বলিউডের কোন ফিল্মের এ্যাড বা কোন সিডি-ভিসিডির দোকানে গেলেই গত রং-বেরংয়ের, কত ঢংয়ের মহিলাদের ছবি দেখা যায়। কাপড় পড়ে আছে, তবুও উলঙ্গ। দেখা মাত্রই যুবকেরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ছবিতে মেয়েরাও মেকআপ করে নিজেদেরকে এমনভাবে প্রকাশ করেছে যে, ঘাড়ের দিকে হাত নিয়ে মাথা একদিকে আর কোমর আরেক দিকে..। নিজেরাও ঝুকে আছে এবং দর্শকদেরকেও নিজেদের প্রতি ঝুকাচ্ছে। সুতরাং এধরনের মহিলাদের পরিণাম যে কি হবে- তা রাসূলে কারীম ﷺ স্পষ্টকরেই বলে গিয়েছেন- জান্নাত তো দূরের কথা! জান্নাতের সুগন্ধিও তারা পাবেনা।
২০১০ সালের শেষের দিকে বলিউডের শাহরুখ খান যখন বাংলাদেশে এসেছিল, সাথে করে উপরোক্ত জাহান্নামী নর্তকীদেরকেও সাথে এনেছিল। শাহরুখ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে দুই/তিন ঘন্টার পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ঐ সকল নর্তকিদের নিয়ে নেচে নেচে পুরো বাংলাদেশকে অপবিত্র করেছিল। আর বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশের মানুষেরা দুই/তিন ঘন্টার এ অনুষ্ঠান দেখার জন্য দশ হাজার থেকে নিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে দ্বিধাবোধ করেনি। আমাদের বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিস্থিতি কি পর্যায়ে পৌঁছেছে, এখন আন্দাজ করুন। (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَرَائِرَ أَنْ يَشْعُثْنَ رُءُوسَهُنَّ. (مَجْمَعُ الزَّوَايِدِ لِلْهَيْثَمِيِّ: 8865)
“হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন- নবী করীম ﷺ স্বাধীন মহিলাদেরকে (পরপুরুষের সামনে) মাথার চুল ষ্টাইল করা থেকেও নিষেধ করেছেন।”
একদিকে দাজ্জালের জাল বিছানো, অপরদিকে মুহাম্মাদে আরাবী ﷺ এর বাতানো সোজা পথ। প্রতিটি মুসলিম বোন নিজের জন্য যে পথই বেছে নিতে চাইবে, বেছে নিতে পারবে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ نِسَاءَ بَنِي إِسْرَائِيلَ كُنَّ إِذَا أُمِطْنَ حُمِلْنَ عَلَى السَّرَايِرِ، فَهَلَكَاتٍ مِنْ قِبَلِ الرُّؤُوسِ. (مُصَنَّفُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ: 20609)
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন- নিশ্চয়ই বনী ইসরাইলের নারীগণ পায়ের দিক থেকে আসা ফেতনায় পড়ে ধ্বংস হয়েছিল। আর এই উম্মতের নারীগণ মাথার দিক থেকে আসা ফেতনায় পড়ে ধ্বংস হবে।”
অর্থাৎ মাথার চুল ষ্টাইল করা, মাথায় শিখদের ন্যায় চুলের জমাট বানিয়ে মানুষের সামনে প্রকাশ করা, মেশিনে তৈরী পৃথক চুল মাথায় লাগিয়ে রং দেয়া। এসকল বিষয় আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি ডেনে আনে। ফলে এগুলো ধ্বংসের কারণ। তাছাড়া এগুলোর মাধ্যমে দুনিয়াবী ক্ষতিও বিদ্যমান। সাইন্টিফিক দৃষ্টিতে মহিলাদের চুল কাটার মাধ্যমে তাদের শরীরে মারাত্মক ধরনের কুপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ، وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ. (سُنَنُ النَّسَائِيِّ: 5008)
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন- নবী করীম ﷺ এমন মহিলাদের উপর অভিশাপ করেছেন, যারা পৃথক চুল লাগায় বা অন্যদের লাগিয়ে দেয়। পাশাপাশি ঐ সকল মহিলাদের উপরও অভিশাপ করেছেন, যারা সুই দিয়ে শরীরের চামড়ায় খুত করে দেহে নকশা একেঁ থাকে।” (ট্যাটু) [আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন।]
আমার বোনেরা! আপনারা যদি সন্তানদেরকে টেলিভিশনের আদর্শে লালন পালন করে থাকেন, তবে স্মরণ রাখবেন- উপরে যা বর্ণিত হয়েছে, এটাই আপনাদের সর্বশেষ পরিণতি। একটু চিন্তা করুন- আপনার এই ছোট্ট খুকির জন্য সর্বপ্রকার চাহিদায় আগুন লাগিয়েছেন... নয় মাস অতিকষ্ট করে পেটে ধরেছেন... মৃত্যুর উপত্যকা দিয়ে অতিক্রম করে তাকে জন্ম দিয়েছেন... অতপর তার জন্য আপনি আপনার সকল আরামায়েশ ভুলে গেছেন... রাত নয়, দিন নয়... গরম নয়, ঠান্ডা নয়... সার্বক্ষণিক তার দেখাশুনায় কাটিয়েছেন... তার যদি কোন কষ্ট হতো, তবে আপনি ভেঙ্গে পড়তেন। কিন্তু আজকের এই মডার্ন সন্তানের কারণে আপনি আজ কারাগারের দুর্গন্ধময় সেলে বন্দি। হয়ত আপনি সন্তানকে কোন ভুল পথ থেকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সন্তান তার মোবাইল ফোন (যা আপনার স্বামীর কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কেনা) দিয়ে পুলিশের কাছে আপনার ব্যাপারে অভিযোগ করেছে। অতঃপর দেখতে দেখতে সকল মহল্লাবাসীর সামনে পুলিশ আপনার ঘরে প্রবেশ করে মান-সম্মানকে মাটির সাথে মিশিয়ে আপনাকে ধরে গাড়ীতে ঢুকিয়ে থানায় নিয়ে গেল।
আমার বোনেরা! আপনি যদি আপনার সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে তাকে দুনিয়ার পূজারী বানাচ্ছেন, তাহলে আগামী কাল এমন পরিস্থিতির জন্য আপনি নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন। এই দিনটি আপনার থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের বাংলাদেশে এমন মায়েরও অস্তিত্ব রয়েছে, যারা তার সন্তানকে “আল্লাহ” ডাকটি পর্যন্ত শেখায়নি। শিশুকাল থেকেই সন্তান এক স্বাধীন শয়তানী ধর্মের অনুসারী। শৈশব থেকে সন্তান যা মন চেয়েছে, তাই করেছে। টেলিভিশনের রিমোট হাতে নিয়ে নিজের কক্ষে যা মনচায়, দেখেছে। আর “মা”-ও অত্যাধিক বিলাসী এবং ঘুরাঘুরির কারণে এতটুকু সময় তার মেলেনি যে, সন্তানকে কিছুটা সময় দেবে। কখনো তার কক্ষে গিয়ে একটু তদারকি করেনি যে, আমার ছোট্ট সন্তানটি কি দেখছে এবং কি করছে।
এসকল সন্তানেরা বড় হয়ে যদি তাদের পিতা-মাতাকে ঘর থেকে বের করে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, তাহলে এক্ষেত্রে সন্তানের কোন ভুল হবে মনে হয়না। সুতরাং পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিজেকে এবং সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আপনার অন্তরে “দরদ” তৈরী করতে হবে। শুধু নিজেকেই নয়; বরং আশপাশের অন্যান্য বোনদের, আত্মীয়স্বজন এবং পড়শী বোনদেরকেও দাজ্জালের ফেতনা এবং তার ফাঁদ সম্পর্কে আপনাকেই অবহিত করতে হবে। আপনার প্রতিটি কথা এবং পদক্ষেপে আল্লাহ পাক আপনাকে ছওয়াব দান করবেন। আপনার সন্তানের অন্তরে পবিত্র কুর‘আনের শিক্ষা, নামাযের গুরুত্ব, পিতা-মাতার মর্যাদা এবং দ্বীন ইসলামের মহব্বত সৃষ্টি করুন। পক্ষান্তরে গান, মিউজিক, কার্টুন, অশ্লীলতা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করা থেকে তার অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করুন।
পুরুষদের দায়িত্বঃ
সাধারণত পুরুষদের মধ্যে দেখা যায় যে, তারা নিজেরা তো ঠিকই নামায-রোযা ইত্যাদি সঠিকরূপে গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং জান্নাত অর্জনের জন্য পূণ্যের কাজে সময় লাগিয়ে থাকে। কিন্তু নিজের সন্তান, বোন এবং মেয়েদের ব্যাপারে এতটুকু চিন্তা করেনা। যারফলে তাদের এবং আত্মীয়স্বজনদের ধর্মীয় জীবনযাপনে বিস্তর অমনযোগীতা দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে পুরুষগণ এ অলসতায় মনযোগ না দেয়ার ফলে পরবর্তীতে তা আস্তে আস্তে প্রশস্ত হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে এমন এক সময় এসে উপস্থিত হয় যে, সে তার স্ত্রী-সন্তানকে একটি হারাম বস্তু থেকে নিষেধ করতে থাকলেও স্ত্রী-সন্তান এটাকে যুগের ফ্যাশান বলে কোমর বেধে তা ব্যবহার করতে থাকে। সুতরাং পুরুষদের উচিত- তাদের নিজেদের আখেরাত নিয়ে ফিকিরের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনকেও আগত সম্মুখ ঝড় থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থাপনা তৈরী করে। তাদের কাছে সময় দিয়ে তাদের দ্বীনী শিক্ষা-দিক্ষায় প্রতিপালন করেন। সামনের ভয়ানক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।
এটা ভেবে বসে পড়বেননা যে, আমি তো একা! আমার কথা কে শুনবে আর কে মানবে! এমনটি কখনো ভাববেন না। আপনি যখনই উম্মতের দরদ নিয়ে আল্লাহ পাককে সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে কোনো পদক্ষেপ নিবেন, তখন আল্লাহ পাকও আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাকে সাহায্য করবেন। ফলশ্রুতিতে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না- যে কাজটি আপনি একা শুরু করেছিলেন, এখন তা লাখো মুসলমানের কন্ঠ এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কোন ময়দানে সাহস হারিয়ে ফেলা, নিরাশ হয়ে যাওয়া এবং মন ভেঙ্গে দেয়া হক্বের রাস্তায় কখনো বাধা হতে পারেনা। এটা তো এমন এক পথ; যার মধ্যে শুধু অটল থাকাটাই সফলতার লক্ষণ, রাস্তাতো এমনিতেই তৈরী হতে থাকে।
[আমরা মানুষ, আমাদের ভুল হতে পারে। ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।]