আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“মু’মিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে।” ~(সূরা আন-নূর ২৪:৩০)
আর নারীদের জন্যও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট—চোখের হেফাযত ঈমানের অংশ। চোখের মাধ্যমে অনেক গুনাহ শুরু হয়, যেমন: পরনারীর/পরপুরুষের দিকে কামনামিশ্রিত দৃষ্টিতে তাকানো, অশ্লীল ছবি/ভিডিও দেখা, হিংসা বা খারাপ উদ্দেশ্যে কারও দিকে তাকানো। রাসূল ﷺ বলেছেন: “চোখেরও যিনা আছে, আর তার যিনা হলো হারাম বিষয় দেখা।” ~(সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)
চোখের হেফাজতের উপকারিতা:
চোখ সংযত রাখলে—অন্তর পবিত্র থাকে, মন শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত থাকে, ঈমান মজবুত হয়, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: “দৃষ্টি সংযম অন্তরের নূর বৃদ্ধি করে।”
কীভাবে চোখের হেফাজত করবেন প্রতিদিনের জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন:
- দৃষ্টি নিচু রাখার অভ্যাস করুন, রাস্তা-ঘাটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকুন।
- সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করুন, অশ্লীল বা ফিতনামূলক কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন।
- আল্লাহকে স্মরণ করুন, মনে রাখুন—আল্লাহ সব দেখছেন।
- নেক কাজে ব্যস্ত থাকুন, ফাঁকা সময়ই গুনাহের বড় কারণ।
- দোয়া করুন- “হে আল্লাহ! আমার চোখকে হেফাযত করুন।”
আধুনিক বাস্তবতা ও আমাদের দায়িত্ব:
আজকের যুগে মোবাইল, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া—সবকিছুই চোখের জন্য বড় পরীক্ষা। এক ক্লিকেই হারাম জিনিস সামনে চলে আসে। তাই একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। চোখের হেফাযত শুধু গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য নয়—এটি একজন মু’মিনের গায়রত, চরিত্র এবং ঈমানের প্রতিচ্ছবি। আজ থেকেই নিজেকে প্রশ্ন করুন: “আমার চোখ কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার হচ্ছে?”